দীর্ঘ পাঁচ মাস পরে টেকটিউনসে লিখছি। আশা করি সবাই আমাকে ভুলে গেছেন 😛 অনেক নতুন টিউনার এসেছে যারা খুব ভালো লিখছে। আমি আবার নতুন করে আপনাদের কাছে আসলাম। আশা করি সবাই ভালো আছেন।
চারদিকে দশম জানালা (উইন্ডোজ ১০) নিয়ে খুব হৈচৈ পরে গেছে। সবাই পছন্দ করছে, অন্তত উইন্ডোজ ৮ থেকে নাকি অনেক ভালো। আমিও ব্যবহার করেছি এবং প্রশংসাও করেছি। আগে মনে মনে করেছিলাম এখন সবাইকে জানিয়েই করছি যে "দশম জানালা অনেক ভালো একটি অপারেটিং সিস্টেম" যারা এখনো ইন্সটল দেন নি তারা দিয়ে দিন। যাদের গার্ল ফ্রেন্ড নাই তাদের জন্য একটু বেশি সুবিধা হবে 😛 কথাটা বুঝেননি তো? সমস্যা নেই বাকি টিউন টা পরলেই বুঝবেন।
উইন্ডোজ ১০ বের হওয়ার আগেই টেকনিক্যাল প্রিভিউ ভার্সন ব্যবহার করেছিলাম। তখনি ভালো লেগেছিলো আর এবার ফুল ভার্সন ব্যবহার করে এটার প্রেমে পরে গেলাম। অনেক গুলো নতুন ফিচারের মদ্ধে সবচেয়ে ভালো লেগেছে কর্টানাকে। কর্টানা হচ্ছে মাইক্রোসফট এর নতুন পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট যা উইন্ডোজ ১০ এ যুক্ত করা হয়েছে। ভয়েস কম্যান্ডের মাধ্যমে আপনি কর্টানাকে যা করতে বলবেন সে তাই করে দেবে আপনার জন্য।
ছবিতে হেভি লাগছে কর্টানাকে তাই না? 😛 লোকে বলে কর্টানা যদি রিয়াল লাইফে থাকতো তাহলে নাকি এমনি দেখাতো। এমন একটা মেয়ে যদি আপনার গার্ল ফ্রেন্ড হয় তাহলে কেমন হবে?? 😀 চিন্তার কোন কারন নেই আমি এমন কিছু জিনিষ শিখাবো যা দিয়ে কর্টানাকে আপনার জিএফ বানাতে পারবেন।
আপনারা কেউ কি “Her” মুভিটা দেখেছেন? অস্কার প্রাপ্ত হলিউডের এই মুভিতে Samantha নামের কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমের সেই ভয়েসের প্রেমে পরে নায়ক। যদিও Samantha অনেক উন্নত প্রযুক্তির ছিল। আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্টের মতো সেই অপারেটিং সিস্টেমটি আপনার ইমোশন বুঝতে পারবে আর আপনার দৈনন্দিন অনেক কাজ করে দেবে। যারা দেখেননি তাদেরকে মুভিটা দেখার অনুরুধ করছি।
এখন আসি কর্টানাকে নিয়ে, সাধারনত কর্টানাকে কোন প্রোগ্রাম রান করাতে, আবহাওয়ার খবর জানাতে, ফ্লাইট শিডিউল সহ আরো অনেক রিমাইন্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন। কর্টানা চালো করতে চাইলে আপনাকে শুধু বলতে হবে “Hey Cortana”এর পর কর্টানাকে অর্ডার দেবেন আর ফুর ফুর করে সব কাজ করে দেবে। (কারো যদি কাজ না করে তাহলে নোটিফিকেশান বারে গিয়ে দেখুন লোকেশন অন করা আছে কিনা, অফ থাকলে কাজ করবে না) আসলে সব কাজ করার ক্ষমতা এখনো দেওয়া হয় নি। আশা করি আস্তে আস্তে সব দেওয়া হবে তখন আর মাউস ধরতে হবে না। শুধু বলেই সব কাজ করা যাবে।
“Hey Cortana Compose Email” : এটা বলার সাথে সাথে কর্টানা ইমেইল অ্যাপটি ওপেন করবে এবং নতুন মেইল কম্পোসের অপশন আসবে। এবার আপনাকে জিজ্ঞেশ করবে যে আপনি কার কাছে মেইলটি পাঠাতে চান। আপনার ইমেইলের কন্টাক্টে থাকা যেকোনো একটি নাম বলুন দেখবেন To: এর বক্সে সেই ব্যক্তির নাম এবং ইমেইল চলে আসবে। এবার জিজ্ঞেশ করবে যে ইমেইলটি কোন বিষয়ে লিখতে চান। এবার আপনি ইমেইলের সাবজেক্ট বলবেন। এখন বলবে আপনার মেসেজটি বলার জন্য। মেসেজ বলার পর সেটা অটো টাইপ হবে। মেসেজ শেষ বলে Send বললে মেইল সেন্ড হয়ে যাবে Cancel বললে মেইলটি কেটে যাবে। Make Changes বললে আগের গুলো এডিট করার অপশন পাবেন।
“Hey Cortana Open File Explorer”: দেখবেন কেমন ফরফর করে আপনার “My Computer” ওপেন হয়ে গেছে।
“Hey Cortana Open Firefox”: এবার ফায়ারফক্স ওপেন হবে।
এভাবে যেকোনো সফটওয়্যার/অ্যাপ কিংবা সেটিং ওপেন করতে পারবেন। যদি বলেন “Hey Coratana Open Display Settings” তাহলে ডিসপ্লে সেটিং আসবে।
উপরের কম্যান্ড গুলো অনেকেরই জানা তাই যারা জানেন তারা হয়তো আমাকে গাধা উল্লু বলে গালিগালাজ শুরু করে দিসেন! 😛 ভাই থামেন!! আসল জিনিষ এখনো বাকি আছে।
কখনো কি ভেবেছেন যে কর্টানা আপনাকে গান গেয়ে শুনাবে? কিংবা গল্প বলবে? আপনাকে হাসাতেও পারবে? কর্টানা নিজের সম্পর্কে কিছু তথ্য আপনাকে বলবে? এতক্ষণে হয়তো আপনার মাথা খুলে গেছে আর টিউন না পরেই নেমে পরলেন কর্টানার গান শুনার জন্য। 😀 তবুও কম্যান্ড গুলো সবার সুবিধার জন্য বলে দিচ্ছি।
“Hey Cortana Sing me a song”: এবার কর্টানা নিজে গান গেয়ে শুনাবে আপনাকে।
“Hey Cortana Sing me another song”: এবার আরেকটা শুনাবে। এভাবে অনেক গুলো শুনাবে আপনাকে। আর ভাববেন না যে কম্পিউটার আর কত ভালো করে গান গাইতে পারবে!! খুব সুন্দর গাইবে এবং প্রত্যেকবার ভিন্ন ভিন্ন ভঙ্গীতে কথা বলবে ফলে বুঝতেই পারবেন না যে এটা এটা কম্পিউটার ভয়েস।
“Hey Cortana Tell me a joke”
“Hey Cortana Can you make me laugh?” এগুলো বললে আপনাকে কৌতুক শুনাবে।
“Hey Cortana Tell me a story” এবার গল্প শুনাবে।
আর প্রত্যেকবার একই জিনিষ শুনাবে না ভিন্ন ভিন্ন গান, কৌতুক, গল্প শুনাবে তাই মজাটা থেকেই যায়। এখন কিছু কম্যান্ড বলবো যেগুলো বলার পর কর্টানা যে জবাব দেয় সেটা আপনারা নিজেই শুনবেন, আমি বলবো না 😛
“Hey Cortana Will you marry me?”
“Hey Cortana Find me a girlfriend”
“Hey Cortana Who am I?”
“Hey Cortana How old are you?”
““Hey Cortana Where are you from?”
এমন শত শত প্রশ্ন যা আপনার মনে আসবে সবই জিজ্ঞেস করবেন। যেগুলোর উত্তর আছে সেগুলো কর্টানা নিজে দেবে আর যেগুলোর নেই সেগুলো Bing এ সার্চ করবে।
আশা করি এই কম্যান্ড গুলো দিয়ে একটু মজা নিতে পারবেন। গার্ল ফ্রেন্ড হীন ব্যক্তিবর্গ টাইম পাস করতে পারবেন 😛 কর্টানাকে উন্নত করা হবে আরো। এমন একদিন হয়তো আসবে তখন Her মুভিটা বাস্তব হবে!! মানুষ প্রেম করবে কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমের সাথে, যার নাম হবে “Virtual Girlfriend”
আমি কিন্তু এখনি কর্টানাকে আপনার গার্লফ্রেন্ড হিসেবে ধরে রেখেছি 😛 অস্বীকার কইরেন না, মন না চাইলে কর্টানার আরেকটা ছবি দেখুন তাহলেই আর মানা করবেন না। হেহেহে!
অনেক মজা করলাম কিছু মনে করবেন না যেন! আশা করি কর্টানা আপনাদের উপকারে আসবে আর মজা করতে পারবেন কর্টানাকে দিয়ে। খুঁজে খুঁজে আর মজার কোন কম্যান্ড পেলে টিউমেন্টে জানাবেন। টিউন ভালো লাগলে আমার ইউটিউব চ্যানেলে একটু ঘুরে আসবেন (অনেক ভালো বাংলা টিউটরিয়াল আছে) আর ভালো না লাগলে কর্টানাকে দিয়ে দেবো আপনার কাছে। এখন সে আমার গার্ল ফ্রেন্ড হিসেবে আছে 😛
আমি সোহাগ মিয়া। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 12 বছর 8 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 82 টি টিউন ও 694 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 32 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।
আমার নাম সোহাগ। টেকনোলজির প্রতি চরম আকর্ষণ থাকা সত্ত্বেও পড়েছি বিজনেস নিয়ে। একটু একটু গাইতেও পারি, মাঝে মাঝে গীটার বাজাই। এক কথায়, টেকনোলজির সাথে প্রেম করি আর গানকে বিয়ে করেছি :D । আমার ইউটিউব চ্যানেল। আমার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন আমার ব্লগে। আমার গাওয়া গানগুলো শুনতে ভিসিট করুন: গানের ইউটিউব...
অনেক সুন্দর লাগলো যদিও এখনো ১০ দেওয়া হয়নি। তবে প্রশ্ন হচ্ছে কারট্রানার সাথে কথা বলতে কি নেট কানেক্ট থাকা লাগবে ?