আমরা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে সহজ, গতিশীল, ঝামেলামুক্ত এবং আধুনিক করার জন্য কত কিছুই না ব্যবহার করে থাকি। এই যেমন ধরুন ইলেকট্রিক চুলা, এয়ার কন্ডশনার, ওয়াশিং মেশিন, রেফ্রিজারেটর বা আপনার পছন্দের হেয়ার ড্রায়ার বা কফি মেকার। কিন্তু আমরা কি জানি এগুলো কিভাবে কাজ করে, এর পেছনে কি ধরনের সায়েন্স বা ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল কাজ করে?
অনেকে ভাবছেন আমি তো ভালোভাবেই এগুলো পরিচালনা করতে পারি, তাহলে এতকিছু জেনে আমার কি লাভ? তাহলে আসুন সেটাই প্রথমে জেনে নেয়া যাক।
আমরা যদি কোন একটা যন্ত্র কিভাবে কাজ করে জানি, তাহলে সেই যন্ত্র কিভাবে ব্যবহার করলে বেশিদিন টিকবে তা জানতে পারবো।
কিভাবে কন্ট্রোলিং করলে ঐ যন্ত্র থেকে সর্বোচ্চ দক্ষতা পাওয়া যাবে জানতে পারবো।
কিভাবে ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ অপচয় কম হবে জানতে পারবো।
খাদ্য প্রসেসিং এর ক্ষেত্রে কিভাবে ব্যবহার করলে খাবারের গুণগতমান ঠিক থাকবে বুঝতে পারবো।
যন্ত্র ব্যবহারের ঝুকি সমূহ বুঝতে পারবো, প্রতিরক্ষার ব্যপারেও সচেতন থাকতে পারবো।
কোন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেলে, আপনাকে ঠকিয়ে টেকনিশিয়ান বা সার্ভিসম্যান বেশি টাকা নিতে পারবে না।
আরো অনেক কিছু
আজকে আমরা এমনই একটা দৈনন্দিন বহুল ব্যবহার্য যন্ত্র ওয়াশিং মেশিন কিভাবে কাজ করে জানার চেষ্টা করবো।
ওয়াশিং মেশিনের বাহ্যিক গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পেছনের দিকে একটা বা দুইটা পানি সাপ্লাাই দেয়ার লাইন থাকে যার মাধ্যমে ঠান্ডা বা গরম পানি প্রবেশ করানো যায়।
সামনের দিকে কন্ট্রোল প্যানেল থাকে যার মাধ্যমে অপারেশন পরিচালনা করা হয়, তাপমাত্রা, স্পিড, অভ্যন্তরীণ প্রেসার, অপারেশন টাইম, রোটেশন ডাইরেকশন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
ডিটারজেন্ট বা ব্লিচ এর মিশ্রণ রাখার জন্য একটা ডিসপেনসার থাকে।
ওয়াশিং ডামের সামনে একটা দরজা থাকে যা দিয়ে জামা কাপড় ওয়াশিং ড্রামে প্রবেশ করানো হয়।
অভ্যন্তরীন দিকে একটা বড় ড্রাম থাকে। এই ড্রামের দুইটি পার্ট থাকে। ভেতরের অংশ মেটালিক হয় এবং এই অংশ ঘুড়তে পারে। বাইরের অংশ প্লাস্টিকের হয় এবং ওয়াটার প্রুফ করে রাখে।
ড্রামের নিচেরদিকে তাপ উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকে।
ড্রামের পানি নিস্কাশনের জন্য একটা পাম্প থাকে।
একটা মোটরের মাধ্যমে অভ্যন্তরীন মেটালিক ড্রামকে ঘোড়ানো হয়।
কন্ট্রোল প্যানেলে মাইক্রোপ্রসেসর বা মাইক্রোকন্ট্রোলার নিয়ন্ত্রিত কন্ট্রোল সিস্টেম থাকে যার মাধ্যমে মটরের ঘুর্ণনের টাইম, রোটেশন স্পিড, বিভিন্ন ভাল্ব খোলা বা বন্ধের বিষয়, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, প্রেসার নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কন্ট্রোল করা হয়।
প্রথমে ইনলেট টিউবের মাধ্যমে ইনলেট ভাল্ব খুলে গিয়ে পানিকে ডিটাজেন্ট ডিসপেনসারে প্রবেশ করায়। ডিটাজেন্ট সহ পানি এরপর ডামে প্রবেশ করে। ড্রামের মধ্যে আগে থেকেই ময়লা কাপড় রাখা হয় অবশ্যই ড্রামের দরজাটি বন্ধ রাখা হয়। কন্ট্রোল প্যানেলের মাধ্যমে ফাস্ট সাইকেলের টাইম, রোটেশন স্পিড, ট্যাম্পারেচার ইত্যাদি নির্ধারণ করে দেয়া হয়, সেই অনুযায়ী মোটর ঘুড়তে থাকে পানি গরম হয় এবং মেটালিক ড্রামটিও ঘুড়তে থাকে। অভ্যন্তরীণ প্রেসার নিয়ন্ত্রণের জন্য একটা ভাল্ব থাকে প্রেসার যখন নির্দিষ্ট লেভেলে পৌছায় তখন বাইরে থেকে ড্রামে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। প্রথম সাইকেল শেষ হলে, ময়লা পানি পাম্পের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়া হয়। একই ভাবে অন্যান্য সাইকেল গুলো পরিচালনা করা হয়। কাপড়ের ধরন এবং মেশিনের নির্দেশনা অনুসারে ২ বা ৩ সাইকেলে কাপড় পরিস্কার করা হয়।
আজ এ পর্যন্তই। সবার জন্য শুভকামনা রইলো।
যে কোন বিষয় আমাকে জানানোর জন্য টিউমেন্ট করার পাশাপাশি আমাকে https://www.facebook.com/pages/Ashim-Kumar/1530502553863914 ফেসবুকে ম্যাসেজ দিতে পারেন।
আমি অসীম কুমার পাল। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 15 বছর 6 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 147 টি টিউন ও 469 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 17 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।
আমি অসীম কুমার পাল। ইলেকট্রনিক্স এবং ওয়েব ডিজাইনকে অন্তরে ধারণ করে পথ চলতেছি। স্বপ্ন দেখি এই পৃথিবীর বুকে একটা সুখের স্বর্গ রচনা করার। নিজেকে একজন অতি সাধারণ কিন্তু সুখী মানুষ ভাবতে পছন্দ করি।
ভালো লাগলো । নতুন কিছু জানলাম